Uncategorized
কী নির্মম! কী নিষ্ঠুর!
মাঝে মাঝেই আমি আমার বাবা’কে নিয়ে লিখি। বাবা আমার ভীষণ আবেগের জায়গা। নানান ছোট বড় স্মৃতির গল্প লেখা আছে আমার বাবাকে কেন্দ্র করে। সেইসব গল্প পড়ে অনেক দূর দুরান্তের মানুষ আবেগাতুর হয়েছেন। কেউ কেউ কেঁদেছেন। তাদের কেউই আমার বাবাকে দেখেননি। অথচ আমার স্মৃতিতাড়নার ভেতর দিয়ে হয়ত সেই মানুষগুলি তাদের নিজেদের বাবাকে স্পর্শ করতে পারতেন।
বাবারা এমনই!
আপনারা বিশ্বাস করবেন কি না জানি না। আমার বাবাকে নিয়ে লেখাগুলির কল্যানে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর এক অচেনা যুবক আমাকে তার শহরে আমন্ত্রন জানিয়েছিল। ২ দিন তার শহরে ফাইভস্টারে রেখে পুরো শহর দেখিয়েছে- খাইয়েছে। সে কলারোডোর পুলিশে চাকরী করে। কারণ একটাই। আমার বাবাকে নিয়ে একটা লেখা পড়ে সে নাকি হুহু করে কেঁদেছে সারারাত। তার নিজের বাবাকে মনে করে!
বাজে ভাবে বললে এমন শোনায়-
আমি আমার বাবার স্মৃতি বিক্রি করে অচেনা শহরে দুই বেলা খাবারের সুযোগ করে নিয়েছিলাম।
আমার বাবা সাধারণ মানুষ ছিলেন।
কিন্তু এদেশে একজন তার বাবার স্মৃতি/কীর্তি বিক্রি করে ২১ বছরের ক্ষমতা-শাসন দাপট দেখিয়ে ফেলেছেন।
কারণ তার বাবা অসাধারণ ছিলেন!
পার্থক্য এটাই – বিতশ্রদ্ধ হয়ে এখন আর কোনো বাঙালি সেই সন্তানের হিংস্রতার কারনে আর সেই বাবার স্মৃতিকে বিক্রি করার কোনো সুযোগ দিতে চান না। আর দেবে না!
আমার এখন প্রায়ই বিভিন্ন কাজে-অকাজে প্রিয় মানুষ আকাশ রহমানের সাথে কথা হয়। নিউইয়র্কে থাকেন আকাশ ভাই। বন্ধু মানুষ। ভালমনের বন্ধু পাওয়া ভাগ্যের। আকাশ ভাই তেমনই। পাবনার ছেলে। দুদিন আগে নিউইয়র্কে বিশাল আয়োজনে তিনি তার বাবার মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল আয়োজন করছেন। আমাকে যেতে বলেছিলেন। পারিনি যেতে।
দীর্ঘদিন ধরে আমার প্রিয় এই বন্ধুবর, ভাই আকাশ রহমান যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। সেখানে ব্যবসায়িক ভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত তিনি । ভীষণ বাবাভক্ত ছেলে আকাশ রহমান। সেখানে তিনি তার বাবাকে স্মরণ করছেন যেখানে।
সেখানকার অধিকাংশই- আকাশ রহমানের বাবাকে চেনেন না। জানেন না। কিন্তু সন্তানের কীর্তির মাপেই তার বাবার জন্য সবাই দোয়া করেছেন।
কারণ আকাশ রহমানকে আমি নিজে দেখেছি। তিনি তার হোম কেয়ারে নিউইয়র্কের প্রায় অর্ধসহ¯্র বৃদ্ধ বাবার সেবার কাজটিই করেন। বুড়ো বাপদের সাথে সারাদিন খেলেন, কথা বলেন, তাদের দেখভাল করেন সারাক্ষণ। হয়ত সেই সকল বাবাদের ভেতরেই আকাশ তার নিজের বাবাকে দেখার চেষ্টা করেন।
বাবা- আমাদের জীবনে প্রত্যেকেরই এমনই।
মসজিদে জুম’আ বা আসরের নামাজের শেষেই মূলত মিলাদ দোয়া বেশি হয়। সেখানে যখন কোনো সন্তান মোনাজাতের আগে দাঁড়িয়ে সবার উদ্দেশ্যে বলেন, প্রিয় ভায়েরা, আজ আমার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী, বাবার জন্য দোয়া কইরেন। তখন মুসল্লিরা অনেকেই কিন্তু বাবাকে চেনেন না। সেই বাবাকে মাপতে থাকেন ঐ সন্তানের আকুলতা, বিণয়বচন দিয়েই!
আমরা প্রত্যেকেই তাই।
আমার বাবা ছিল শেখ সাব এর ভক্ত। [ বঙ্গবন্ধুকে বাবা শেখসাব বলে ডাকতো। ] আমার বড় চাচা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। শেখ হাসিনার শাসনামল বাবা দেখে যাননি।
তবে বলতেন – শেখের বেটি তো। খারাপ করবে না!
আমি তো বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি।
ঐ বাবার মুখের কথা শুনেই প্রথম তাঁকে মাপা শুরু করি।
কিন্তু সেই শেখের বেটি যখন পিলখানায় বিডিআর অফিসার মারলো। হতবাক..
সেই শেখের বেটির বাহিনী যখন আবরারকে মারল। বিচার হলো না। তখন ফেসবুতে অনেকগুলো লেখা লিখলাম। একটি লেখার জন্য সাইবার ক্রাইমের নাজমুল আমাকে হুমকি দিলো। আমার আইডি ২ দিনের জন্য হ্যাক করে ফেলল!
তার হাতে পায়ে ধরে আমি আইডি ফেরত আনলাম।
কিছুদিন আগে সেই শেখের বেটি যখন তার নিজের নাগরিককে হ*ত্যা করে ট্যাংক থেকে নর্দমার মতো ফেলে দেয়!
যখন সেই শেখের বেটির নির্দেশে কোনো এক কনস্ট্রাকশন বিল্ডিংয়ের ঝুলে থাকা কিশোরকে মারতে ৬ রাউন্ড গুলি ছোঁড়া হয়..
যখন সেই শেখের বেটি’র হুকুমে সবার সামনে আবু সায়ীদকে মেরে ফেলার পরদিনও অনুতপ্ত না হয়ে স্থাপনা ভাঙার কষ্টে মায়াকান্না কাঁদে..
যখন শেখের বেটির আদেশে উত্তরায় এক মাঝ বয়সী যুবক বাজার করতে নেমে ৩ রাউন্ড গুলি খেয়ে পুলিশের পা জাপটে ধরে বলে ‘আর মাইরেন না..এরপর আবারও গুলি করা হয় তাকে!
যখন সেই শেখের বেটির সরাষ্ট্র মন্ত্রী’ তার পুলিশ বাহিনীর সাথে খোশমেজাজে মোবাইলে দেখিয়ে বলে,
‘স্যার একটা মারি, একটাই থামে, বাকি গুলা পেছায় না.. এইডাই সমস্যা।’
যেন শেখের বেটির কাছে আমরা কেউই মানুষ ছিলাম না।
আমরা যেন একেকটা কীট! তার মসনদই আসল। কীটগুলো পিষে ফেলতে চায় !
কী নির্মম! কি নিষ্ঠুরতায় ভরা পৈশাচিক কান্ড ঘটার পর..
সেই শেখের বেটি আগামী পরম্পরায় কোনো মসজিদ বা কোনো প্রার্থনালয়ে যখন বলতে চাইবে-
আজ আমার বাপের মৃত্যুবার্ষিকী! সবাই দোয়া কইরেন। তখন এই শেখের বেটি’র দিকে চেয়ে প্রার্থনাদায়ী মানুষগুলো থুতু দেবে। যারা যারা শেখের বেটির বাবাকে দেখেই নি। জানেনই নি।
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তাই কুলাঙ্গার, হিংস্র দানব সন্তানেরা তাদের বাবাদের প্রার্থনাগুলো অভিশাপে পরিনত করে দেয়!
গত কয়েকটা দিয়ে প্রায় প্রতিদিন একেকটা আয়নাঘরের নির্মমতার গল্প শুনি আর অভিশাপ দিতে ইচ্ছে করে। রাতে ঘুম আসে না.. এত নিষ্ঠুরতার গল্প শুনে!আমি যখন এই লেখাটি লিখছি- তখনও হাসপতালে প্রায় ৬ হাজার মানুষ হাসপাতালে কাতরাচ্ছে!!
এসবকে প্রশ্রয় দেয়া মায়াকান্নার দালালদের
আজ মানুষ বলে মানতে কষ্ট হয়!!
তখন আজকের দিনে বঙ্গবন্ধু’র
প্রতি আফসোস ছাড়া কিছুই মুখে-মনে আসে না।
আহ !! এমন এক পিশাচকে জন্ম দিয়েছিলেন!!